নতুন বাজেটে চমক, দুর্নীতি দমন ও অর্থনীতিতে আস্থা ফেরানোয় জোর

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নানা চমক রাখার পরিকল্পনা করছে বিএনপি চেয়ারম্যান Tarique Rahman-এর নেতৃত্বাধীন সরকার। বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে দুর্নীতি কমিয়ে অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং রাজস্ব আদায়ে নতুন কৌশল প্রয়োগ।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমিত সময়ের মধ্যেই বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুতে ভর্তুকির চাপ এবং নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মতো নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে।

তবে এসব সংকটের মধ্যেও বড় আকারের বাজেট উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হতে পারে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। এর মধ্যে বড় অংশ রাজস্ব থেকে আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও মোট ব্যয়ের বড় অংশ পরিচালন খাতে ব্যয় হতে পারে।

রাজস্ব বাড়াতে কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক শর্তের প্রেক্ষাপটে কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা কমানো হতে পারে। সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদভিত্তিক কর আরোপ, আয়কর রিটার্ন যাচাই জোরদার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে ব্যাংক হিসাব বাধ্যতামূলক করা এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘এক নাগরিক এক হিসাব’ এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কৃষক সহায়তা, পারিবারিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হবে।

তবে অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় সংসদে আগামী জুন মাসে বাজেট উপস্থাপন করা হতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই বাজেট সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *